‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানের ৪ রানের আক্ষেপ!

 

পাকিস্তানের নামের সাথে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমাটা এমনি এমনিই লাগেনি। সেটা আরও একবার প্রমাণ করলো তারা। সম্ভবকে অসম্ভব করতে যাদের জুড়ি মেলা ভার! দুই দিন হাতে রেখে জয়ের জন্য তার গেছিলে ১৩৯। হাতে ১০ উইকেট ।চতুর্থ দিন সেই দলটি দ্বিতীয় সেশন নাগাত হেরে গেল ৪ রানে!

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিশ্চিত জয়ের পথে পাকিস্তান। অনেকে তো জয় ধরে নিয়েই রিপোর্ট সাজিয়ে বসেছিল। কিন্তু দলটি যে পাকিস্তান! তাদের খেলায় টান টান উত্তেজনা তৈরি হবে না, নাটকের চেয়েও নাটকীয় কিছু ঘটে যাবে না, থ্রিলারের জন্ম হবে না, খেলোয়াড় থেকে দর্শক- সবাই স্নায়ুচাপে ভুগবে না, তা কি করে হয়! তাহলে যে সেটা পাকিস্তানের খেলা বলে মনে হবে না!

আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে কিউইদের বিপক্ষে টেস্টের চতুর্থ দিনে এসে তেমন অবস্থাই তৈরি করেছে পাকিস্তান। টান টান উত্তেজনা ভরা এই ম্যাচে নাটকের চেয়েও বেশি নাটকীয়তা জন্ম দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হেরে গেল পাকিস্তানিরা! একা এক প্রান্তে লড়াই করেও পারলেন না আজহার আলি। নিউজিল্যান্ডের অভিষিক্ত স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতেই শেষ হয়ে গেলো সরফরাজ আহমেদের দল। অ্যাজাজ প্যাটেল একা নেন ৫ উইকেট।

আবু ধাবিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে নিউজিল্যান্ড টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে। পাকিস্তানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে দলটি ১৫৩ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে করে ২২৭। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ২৪৯ করলে সরফরাজদের টার্গেট দাঁড়ায় ১৭৬। সোমবার দলটি অলআউট হয় ১৭১ রানে।

১৬৪ রানে ৯ম উইকেটের পতনের পর শেষ উইকেট জুটিতে শেষ জুটিতে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে প্রায় ৭ ওভার একা ব্যাট করে যান আজহার আলি। প্রতি ওভারের শেষে ১ রান নিয়ে স্ট্রাইকে চলে যান তিনি। আব্বাসকে স্ট্রাইকই দিলেন না, আউট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। শেষ পর্যন্ত আজহার আলি নিজেই পারলেন না ঘূর্ণিতে টিকে থাকতে। অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে শিকার হলেন এলবিডব্লিউর।

২৩.৪ ওভার বল করে ৪টি মেডেন, ৫৯ রান দিয়ে অ্যাজাজ প্যাটেল একাই নিলেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে তিনি নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। ৪ রানের থ্রিলার জয়ের সেরা নায়ক হয়েই থাকলেন ৩০ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া এই স্পিনার। ম্যাচ শেষে যে সেরার পুরস্কার উঠলো তার হাতে!অথচ জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৭৬ রান। তৃতীয় দিন বিকেলেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৭ রান সংগ্রহ করে ফেলেছিল তারা। শেষ দুই দিনে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১৩৯ রান। হাতে উইকেট পুরো ১০টি।

এমন পরিস্থিতিতে আজ চতুর্থ দিন সকালে ব্যাট করতে নেমে আর মাত্র ৩ রান যোগ করার পরই বিচ্ছিন্ন হয় ওপেনিং জুটি। আগের দিনের ২৫ রানের সঙ্গে মাত্র ২ রান যোগ করে আউট হয়ে যান ওপেনার ইমাম-উল হক। তিনি করেন ২৭ রান। নিজের নামের পাশে ১০ রান যোগ করে আউট হয়ে যান মোহাম্মদ হাফিজও।

সেই যে বিপর্যয় শুরু, তাতে কিছুটা বাধ দিতে সক্ষম হয়েছিলেন আজহার আলি এবং আসাদ শফিক। দু’জনের ব্যাট থেকে আসে ৮২ রানের দারুণ এক জুটি। ৪৮ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর আজহার আর আসাদ শফিকের ব্যাটে ১৩০ পর্যন্ত চলে গিয়েছিল পাকিস্তান। ৪৫ রান করে নেইল ওয়াগনারের বলে উইকেটের পেছনে আসাদ শফিক ক্যাচ দেয়ার পরই বিপর্যয় শুরু হয় পাকিস্তানের।

সেই বিপর্যয় সামাল দিতে পারেননি আর কেউ। শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলে ছিলেন বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ, বিলাল আসিফ, ইয়াসির শাহ এবং হাসান আলিরা। এর মধ্যে বাবর আজমের দুর্ভাগ্য, রান আউটের শিকার হয়েছিলেন ১৩ রান করার পর। বাকিদের মধ্যে সরফরাজ করেন কেবল ৩ রান। বাকিরা রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস : ১৫৩ ও ২য় ইনিংস ২৪৯

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২২৭ ও ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ১৭৬) ১৭১

ম্যান অব দ্য ম্যাচ:অ্যাজাজ প্যাটেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =

shares