আব্বাসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সরফরাজ

 

আবুধাবিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে প্রায় একাই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে গুড়িয়ে দিয়ে শতাব্দী সেরা এক রেকর্ডও গড়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস।২৮ বছর বয়সী আব্বাসের দাপুটে বোলিংয়েই অজিদের ৩৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে পাকিস্তান, যা রানের ব্যবধানে দলটির সবচেয়ে বড় জয়। আব্বাসের এমন অসাধারণ বোলিংকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।অন্য সবার মত পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও আব্বাসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

বয়সভিত্তিক দলের ধাপগুলো পেরিয়ে এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ বছর বয়সী এই পেসার এখন পাকিস্তান বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা। সর্বশেষ আবুধাবি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ে তাঁর অবদান ১০ উইকেট!আব্বাসের দৃষ্টি এখন শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার। গত বছর টেস্ট অভিষেকের পর এই সংস্করণে ১০ ম্যাচে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৫৯। গড় ১৫.৬৪! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তাঁর উইকেটসংখ্যাই সর্বোচ্চ—১৭।

কোনো সিরিজে কমপক্ষে ১৫ উইকেট পেয়েছেন এমন পারফরম্যান্স করা পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে আব্বাসের গড়ই সবচেয়ে ভালো—১০.৫৮। তবে টেস্ট আঙিনায় এ কদিনের পথচলায় আব্বাস এমন এক কীর্তি গড়েছেন যা এই সংস্করণে গত ১০০ বছরের মধ্যে সেরা!টেস্ট ক্রিকেটে ন্যূনতম ৫০ উইকেট পেয়েছেন এমন বোলারদের মধ্যে গত এক শতাব্দীতে আব্বাসের বোলিং গড়ই সেরা—১৫.৬৪। আর সব কাল বিবেচনায় চতুর্থ সেরা।

১০ ম্যাচে ১৯ ইনিংসে বল করেছেন আব্বাস। ২২৪৪টি বৈধ ডেলিভারিতে ৯২৩ রান খরচায় তাঁর উইকেটসংখ্যা ৫৯। ১৭.৯৭ বোলিং গড় নিয়ে গত ১০০ বছরের এই তালিকায় দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি স্পিনার বার্ট আয়রনমঙ্গার। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার ফ্রাঙ্ক টাইসনের বোলিং গড় ১৮.৫৬—তিনি এই তালিকায় তৃতীয়। আয়রনমঙ্গার ও টাইসনের ক্যারিয়ার যথাক্রমে ১৪ ও ১৭ টেস্টের।সেটিও আবার অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করে। আরব-আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে আব্বাস যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তা জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। গত ১০০ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো সিরিজে পেসারদের মধ্যে আব্বাসের বোলিং গড়ই সেরা (১০.৫৮)।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস প্রসঙ্গে সরফরাজ বলেন, আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক জয়। আমি এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব আমার বোলারদেরকেই দিতে চাই, বিশেষ করে মোহাম্মদ আব্বাসকে। পুরো সিরিজ জুড়ে সে যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বোলিং করেছেন তাই মূলত দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

সরফরাজ আরো যোগ করেন,” আমার মনে হয় না অস্ট্রেলিয়া দল আব্বাসকে খুব বেশি বিবেচনায় রেখেছিল। তবে আমি পুরো কৃতিত্ব আব্বাসকে দিতে চাই, কারণ এই পিছে পেস বোলারদের জন্য ভালো করা মোটেও সহজ ছিল না। যেভাবে সে বল করেছে তা এক কথায় অসাধারণ”।

সরফরাজ আরো বলেন,” আপনি যদি দেখেন আমরা যেভাবে প্রথম ম্যাচটি খেলেছি, আমরা প্রায় জিতে গিয়েছিলাম তবে শেষমেষ ভাগ্য সহায় না থাকায় জিততে পারিনি। দ্বিতীয় টেস্টে শুরুতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে আমরা অনেকটা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। তবে খাদের কিনারা থেকে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় তাই আমাদের ব্যাটসম্যানরা দেখিয়েছে। ফখর জামান ,আজহার আলী, বাবর আজম ও আসাদ শফিক এরা ভালো ব্যাটিং করেছে, যার ফলে আমরা খুব সহজে জয় পেয়েছি। পুরো সিরিজে অস্ট্রেলিয়া থেকে অনেকটা ভালো খেলেছে পাকিস্তান” ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − twelve =

shares