ঘরের মাঠে ভাবতেই হচ্ছে আফগান বৈচিত্র নিয়ে

ক্রিকেটবিশ্বে এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে বাংলাদেশকে তাদের মাটিতে এসে হারানো যারপরনাই কঠিন। বিশেষ করে উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর জন্য আরো মুশকিলের ব্যাপার। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে ফিরে যেতে বাদ নেই কেউ। দেশের মাটিতে স্পিনাররাই বাংলাদেশের সেসব সাফল্যের নির্মাতা। আফগানদের বিপক্ষেও স্পিনেই আস্থা রাখার কথা সাকিব আল হাসানদের। কিন্তু রশিদ খানের দলও তো সমৃদ্ধ এক ভাঁড়ার নিয়ে এসেছে।

তুলনায় গেলে বরং আফগানদের বোলিং আক্রমণকেই বেশি বৈচিত্র্যময় বলতে হয়। বাংলাদেশ দলে সাকিবের সঙ্গে দ্বিতীয় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আর দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। আফগান শিবিরে বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার রশিদ খানের সঙ্গী কায়েস আহমেদ। যাঁর লেগ স্পিনে সম্প্রতি দেশের মাটিতেই নাকাল হয়েছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানরা। গতকাল চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনে বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের টপাটপ শিকার করেছেন জহীর খানও। ২৪ রানে ৫ উইকেট নেওয়া এই চায়নাম্যানের রানআপ স্পিনারদের তুলনায় বেশ দীর্ঘ। বলের গতিও একজন স্পিনারের গড় গতির চেয়ে বেশি। দুয়েমিলে আরো বেশি দুর্বোধ্য ঠেকেছে তাঁর বোলিং। সেই সঙ্গে আছেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবীও। নানামুখী বৈচিত্র্য থাকায় আফগানদের স্পিন আক্রমণ হয়ে উঠেছে বেশ আকর্ষণীয়ও।

নির্বাচক হাবিবুল সেটি মানছেনও। কিন্তু এটি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, তখন এমন পরীক্ষার মুখে তো পড়তে হবেই। সাফল্য পেতে সেই পরীক্ষায় পাসও করা চাই। নিউজিল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলতে চাইলেন সেটিই, ‘সব দিক থেকে আফগান বোলিং ভালো অবশ্যই। এতে কোনো সংশয়ই নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হলে তো আপনাকে সব ধরনের বোলিংয়ের মুখোমুখি হতেই হবে।’ এখানে আফগানিস্তানকে আলাদা চোখে দেখারও কিছু আছে বলে তিনি মনে করছেন না, ‘টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামলে সহজ বলে কোনো কিছুই নেই। এটি আপনি যার সঙ্গেই খেলুন না কেন। টেস্ট ম্যাচ হলো আপনার সর্বোচ্চ দক্ষতার পরীক্ষা। আফগানিস্তানের স্পিনে বৈচিত্র্য আছে বলে কঠিন, অন্যদের ক্ষেত্রে সহজ, ব্যাপারটি এমন নয়। টেস্ট খেললে পরীক্ষা দিতেই হবে।’

সেই পরীক্ষায় চায়নাম্যান বোলারকে খেলা শুধু বাংলাদেশেরই নয়, অন্যান্য দেশের ব্যাটসম্যানদের জন্যও ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয় বলে মনে করেন হাবিবুল, ‘চায়নাম্যান খেলার অভ্যাস তো মানুষের খুব বেশি নেই। এই ধরনের বোলার একটু বিরলই। ব্যাপার এটিই। চায়নাম্যান ভালো হোক বা মন্দ, এ রকম বোলার যেহেতু কেউ খুব একটা খেলে না, এ জন্য এ রকম বোলারকে ইউনিক মনে হয়। চায়নাম্যান মানে যে খুব বিরাট কিছু, তা কিন্তু নয়। চায়নাম্যান খুব বেশি তো বিশ্বে নেই। এটিই ওদেরকে একটু আলাদা করে দেয়।’ সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া জহীর খান আফগান বোলিংয়ে বৈচিত্র্য অবশ্য যোগ করেছেন। সেই সঙ্গে দুই লেগ স্পিনারে আরো বেশি বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে তারা। দেশের মাটিতে খেলা হলেও আফগানদের বৈচিত্র্যময় স্পিন আক্রমণ কিভাবে সামলান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সেটিই টেস্ট পূর্ব আলোচনায় সবচেয়ে বেশি কৌতূহল জাগিয়ে রাখছে। যা ঘরের মাঠে অন্য রকম এক পরীক্ষাও। বৈচিত্র্য সামলানোর সেই পরীক্ষাতেই লুকিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের গন্তব্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 4 =

shares