প্রিয় তারকার বিপক্ষে প্রথম গেমটা জেতেন সুমিত

এ বছরটা গ্র্যান্ড স্লামে যাচ্ছেতাই কেটেছে অ্যাঞ্জেলিক কেরবারের। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চতুর্থ রাউন্ডে, ফ্রেঞ্চ ওপেনে প্রথম রাউন্ড আর উইম্বলডনে বাদ পড়েছিলেন দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। ইউএস ওপেনেও ভাঙা হলো না ব্যর্থতার বৃত্ত। ফ্রান্সের অখ্যাত খেলোয়াড় ক্রিস্তিনা ম্লাদেনোভিচ তাঁকে হারান ৭-৫, ০-৬, ৬-৪ গেমে। বছরটা হতাশায় শেষ হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় কেরবারের, ‘আগামী বছর নিজের ছন্দে ফিরে আসার চেষ্টা করব আমি।’

উদ্বোধনী দিনে সবার নজর ছিল সেরেনা উইলিয়ামস ও মারিয়া শারাপোভার ম্যাচে। সাবেক দুই চ্যাম্পিয়নের ‘ব্লকবাস্টার’ ম্যাচের সমাপ্তিটা একেবারে পানসে। সেরেনার দাপটে এক ঘণ্টাও টিকতে পারেননি পাঁচবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী শারাপোভা। ৫৯ মিনিটে সেরেনার জয় ৬-১, ৬-১ গেমে। এটা শারাপোভার বিপক্ষে তাঁর টানা ১৯তম জয়। দুরন্ত দাপটে জয়ের পর সেরেনার উচ্ছ্বাস, ‘যখনই শারাপোভার মুখোমুখি হই, নিজের সেরাটা খেলি আমি। কারণ ওর মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেললে সেরাটাই বের করে আনতে হবে আপনার।’ ম্যাচজুড়ে সেরেনার উইনার্স ১৬টি। সেখানে শারাপোভার আনফোর্সড অ্যাররস ২০টি। আরো একবার সেরেনার কাছে হারায় তাঁর হতাশা, ‘সার্ভে দুর্দান্ত ছিল সেরেনা। আমি ওর সার্ভ ভালোভাবে ফেরাতে পারিনি, এটা হতাশার।’

রজার ফেদেরার সব শেষ গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেন ২০০৩ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে। গত পরশু প্রথম গেম জিতে সেই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের সুমিত নাগাল। ২২ বছর বয়সী দিল্লির এ তরুণ প্রিয় তারকার বিপক্ষে প্রথম গেমটা জেতেন ৬-৪-এ। ফেদেরার জেগে ওঠেন এরপরই। ৪-৬, ৬-১, ৬-২, ৬-৪ গেমে জেতার পর সুমিতের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ঝরল তাঁর কণ্ঠে, ‘সুমিত ভীষণ প্রতিভাবান। মনোযোগ ধরে রেখে কঠোর অনুশীলন করে গেলে অনেক দূর যাবে ও।’ ফেদেরারের ক্যারিয়ারে এটা ১২২৪তম জয়। প্রথম গেম হারের ধাক্কা কাটিয়ে গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচও জিতলেন টানা ৬২টা। তাতে তাঁর সন্তুষ্টি, ‘উইম্বলডনেও প্রথম রাউন্ডে গেম হেরেছিলাম। এরপর নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে ফাইনাল খেলি। তাই এবার প্রথম রাউন্ডে গেম হারাটা সতর্কই করবে আমাকে।’

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচকে অবশ্য বেশি ঘাম ঝরাতে হয়নি। স্পেনের রবার্তো বায়েনাকে হারিয়েছেন ৬-৪, ৬-১, ৬-১ গেমে। ২০০৮ সালে রজার ফেদেরারের পর ইউএস ওপেনে টানা দুই শিরোপা নেই আর কারো। এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিততেই তিনি ফ্লাশিং মিডোয়, ‘এখানে এসেছি শিরোপায় একটা চোখ রেখে। অন্যরাও তাই। প্রথম রাউন্ডের জয়টা আত্মবিশ্বাস জোগাবে আমাকে।’

ফেদেরারের মতো মেয়েদের র‌্যাংকিংয়ে দুইয়ে থাকা অ্যাশলি বার্টিও হেরেছিলেন প্রথম গেম। শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে ১-৬, ৬-৩, ৬-২ গেমে তিনি হারান জারিনা দায়াসকে। আর তৃতীয় বাছাই ক্যারোলিনা প্লিসকোভা ৭-৬, ৭-৬ গেমে হারান তেরেসা মার্তিনোকোভাকে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + thirteen =

shares