ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াড, খেলার সময়সূচী ও সম্ভাবনা

এই বিশ্বকাপে ফেবারিটদের তালিকায় রয়েছে ফ্রান্সও। ফিফার এই বিগ আসরে একবার বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স।  তরুণনির্ভর এই দল ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০১৬ ইউরোর ফাইনাল খেলেছিল। 

 

কোন গ্রুপে ফ্রান্স?

গ্রুপ ‘সি’ তে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে অস্ট্রেলিয়া, পেরু ও ডেনমার্ক। অন্য তিনটি দল মাঝারি মানের হওয়ায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে ফরাসীদের খুব বেশি সমস্যা হবার কথা নয়।

গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের খেলার সময়সূচী

ফ্রান্স বনাম অস্ট্রেলিয়া, ১৬জুন ২০১৮, বিকেল ৪টা

ফ্রান্স বনাম পেরু, ২১জুন ২০১৮, রাত ৯টা।

ফ্রান্স বনাম ডেনমার্ক, ২৬জুন ২০১৮, রাত ৮টা।

ফ্রান্সের ২৩ সদস্যের স্কোয়াড

এবারের বিশ্বকাপের জন্য তরুণ তারকা ও প্রতিভায় ঠাসা ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন দলটির কোচ দিদিয়ের দেশম।চোটের কোনও সমস্যা ছিল না। তাই এর আগে পূর্ণশক্তির দলই দিয়েছিলেন দেশম। প্রাথমিক বাছাইয়ের দলটিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।   আগেই পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছিলেন দেশম।

সেই দলে চোট জাতীয় কোন সমস্যা নেই। তাই তা অপরিবর্তিতই রেখেছেন তিনি। প্রথমবার দল ঘোষণার সময়ই জায়গা পাননি দুই স্ট্রাইকার আলেকসান্দ্র লাকাজেত ও করিম বেনজেমা; দুই মিডফিল্ডার আঁতোয়া রাবিও এবং আন্তনি মারশিয়াল। স্ট্যান্ডবাই তালিকা থেকেও নতুন করে কেউ জায়গা পাননি বিশ্বকাপের দলে।

গোলরক্ষক – হুগো লরিস, স্টিভ মানদান্দা, আলফোনসে আরিওলা।

ডিফেন্ডার – লুকাস হার্নান্দেজ, প্রেসনেল কিমপেম্বে, বেঞ্জামিন মেন্দি, বেঞ্জামিন পাভার্দ, আদিল রামি, জিব্রিল সিদিবে, স্যামুয়েল উমতিতি, রাফায়েল ভারান।

মিডফিল্ডার – এনগালো কান্তে, ব্লেইস মাতুইদি, স্তিভেন এনজোনজি, পল পগবা, ক্লোরেনতিন তোলিসো।

ফরোয়ার্ড – উসমান দেম্বেলে, নাবিল ফেকির, অলিভিয়ে জিরু, আঁতোয়া গ্রিজমান, থমাস লেমার, কিলিয়ান এমবাপে, ফ্লোরিয়ান থাওভিন।

ফ্রান্সের সম্ভাব্য লাইনআপ

গোলবার সামলামোর দায়িত্বটা অভিজ্ঞ লরিসের উপরেই থাকবে। রক্ষননভাগের নেতৃত্বে থাকবে রিয়াল তারকা রাফায়েল ভারানে। তার সঙ্গী হিসেবে দেখা যাবে মেন্ডি, উমতিতি, ও পাবার্ডকে। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্বে থাকবে কন্তে, পগবা ও মাতুইদি।

পগবা ও কন্তের মতো মিডফিল্ডাররা বিশ্বকাপে ফরাসীদের ভরসার পাএ হয়ে থাকবে। আক্রমণভাগে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা তিন তারকা এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, ডেম্বেলে। এই তিন তারকা অন্য যে কোনো দলের রক্ষণভাগ গুড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

ফ্রান্সের মূল তারকা- আন্তেনিও গ্রিজম্যান

আতলেতিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড গ্রিজম্যান ২০১৬ সালের ইউরোতে টপ স্কোরার ছিলেন। এছাড়া আতলেতিকোর হয়ে ১৭-১৮ মৌসুমেও অসাধারণ খেলেছেন এই ফরাসী তারকা।

বিশ্বকাপের পরেই তার নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব এফসি বার্সেলোনা। ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলের হয়ে ৫৩ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন। তাই বিশ্বকাপে ফরাসী দর্শকদের মধ্যমণি হয়ে থাকবেন তিনি।

ফ্রান্সের ম্যানেজার –দিদিয়ের দেশম্প

টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফ্রান্সের কোচ হিসেবে রাশিয়াতে যাবে দেশম্প। ব্রাজিল বিশ্বকাপে তরুণ স্কোয়াড নিয়ে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেই থামতে হয় দেশম্পের দলকে। তবে ব্রাজিল বিশ্বকাপের বেশিরভাগ প্লেয়ার বর্তমান দলে থাকায় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন দেশম্প।

গত ৪ বছরে রাশিয়া বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দলকে তৈরি করেছেন তিনি। ২০১২ সালে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তার সবথেকে বড় সাফল্য বলতে ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের রানার্স -আপ হওয়া।

ফ্রান্সের গোপন অস্ত্র– অলিভিয়ার জিরু

ফ্রান্স দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় জিরুকে তারকার ভিড়ে শুরুর একাদশে দেখা যাবেনা। তবে দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা রাখেন এই ফরোয়ার্ড। ফ্রান্সের হয়ে ৭৩ ম্যাচে ৩১ গোল করেছেন এই চেলসি ফরোয়ার্ড।

যেহেতু তাকে দ্বিতীয়ার্ধের ৭৫ মিনিটের পর নামানো হবে বলে জানান দেশম্প, তাই তাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ফ্রান্সের জন্য ট্রাম্পকার্ড হতে পারে এই ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সম্ভাবনা

রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার মানা হচ্ছে ফরাসীদের। তারুণ্যনির্ভর দল থাকায় অনেকের মতেই রাশিয়া বিশ্বকাপ ফ্রান্সের ঘরেই যাবে। এছাড়া অন্য যে কোনো দল হতে শক্তিমত্তায় ও কৌশলে ফরাসীরা এগিয়ে থাকবে। মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ডে নির্ভরযোগ্য প্লেয়ার থাকায় ফ্রান্স নিজেদের  দ্বিতীয় বিশ্বকাপের আশা করতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =

shares