ব্যাটিং ব্যর্থতায় ট্রেবল জয়ের স্বপ্নভঙ্গ টাইগারদের


সুযোগ ছিল, তবে লুফে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ,ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে প্রথমবারের মতো কোনো দলের বিপক্ষে ট্রেবল জয়ের সুযোগ থাকলেও ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পনে তা হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।  ক্যারিবীয়দের দেয়া ১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিব আল হাসানের দল ৩ ওভার আগেই গুটিয়ে যায় ১৪০ রানে। ব্যাটসম্যানদের ভুলে পূর্ণাঙ্গ সিরিজের তিনটি ট্রফি জমা হল না টাইগার শোকেসে।

১৯১ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশও তেড়েফুঁরে শুরু করে। শুরু থেকেই মারুকুটে মেজাজে দেখা যায় লিটন কুমার দাসকে। যদিও এই শুরুর ব্যাপারটা দীর্ঘ হয়নি। দলীয় ২২ রানেই রান আউটের শিকার হয়ে ফিরতে হয় ৮ রান করা তামিম ইকবালকে। অবশ্য আরেকটু আগেই ফিরতে পারতেন বাঁহাতি এই ওপেনার। কিন্তু তার তোলা ক্যাচ নিতে পারেননি বোলার ওশান থমাস।

তামিমের ফেরার পর সৌম্যকে নিয়ে একই স্টাইলে ব্যাটিং করে যেতে থাকেন লিটন। ৩ ওভারে ৩২ রান যোগ হয়ে যায় বাংলাদেশের স্কোরকার্ডে। এরমাঝে তামিমের মতো সৌম্যও একবার জীবন ফিরে পান। এবারও ক্যাচ হাতছাড়া করেন থমাস। হতাশায় মুষড়ে যাওয়ার অবস্থা তখন ডানহাতি এই পেসারের। চতুর্থ ওভারে গিয়ে সেই হতাশা পুরো উইন্ডিজ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেন লিটন ও সৌম্য। তিন ছয় ও দুই চারে এই ওভার থেকে ৩০ রান তুলে নেন তারা।

চার ওভারেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ৬২ রানে। কিন্তু এই ওভারের শেষ বলে বিতর্কের জন্ম দেন অনফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। লিটনের নেওয়া শট গিয়ে জমা হয় উইন্ডিজের ফিল্ডারের হাতে। কিন্তু তানভীর নো বল কল করেন। যদিও রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি নো ছিল না। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে তখন নারাজ ক্যারিবীয় অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট। তিনি রিভিউ দাবি করেন। তানভীর হায়দার জানান রিভিউ নেওয়া সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় বেশ কিছুক্ষণ মাঠ ও মাঠের বাইরে চলে নাটক। খেলা বন্ধ থাকে ১০-১৫ মিনিটের মতো। শেষমেষ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই মেনে নেন উইন্ডিজের ক্ষীপ্ত ক্রিকেটাররা। কিন্তু এই ঘটনায় যেন তারা খুনে মনোভাব নিয়ে আসে নিজেদের মধ্যে। পরের ওভারেই সেটার ফল। পঞ্চম ওভারে টানা দুই বলে সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে দেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। অবশ্য এই দুই ব্যাটসম্যান দৃঢ়তার পরিচয়ও দেননি। তাদের মারকুটে মনোভাব দলের বিপদ ডেকে আনে। সৌম্য আউট হওয়ার পরের বলেই ছয় হাঁকাতে গিয়ে আউট হন সাকিব।

এই যে উইকেট পতন শুরু হয়, আর থামেনি। এরপর চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে দ্রুতই ফেরেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১১ রান করা মাহমুদউল্লাহকে কিছুটা সাবলীল মনে হচ্ছিল। কিন্তু তিনিও অনর্থক শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৭.৩ ওভারে ৮০ রান তুললেও ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সাকিব আল হাসানের দল। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আশা জিইয়ে রাখা লিঠনও আর টিকতে পারেননি। ২৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৩ রান করে থামেন তিনি।

আরিফুল হক ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও কিছু করতে পারেননি। শেষের দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ১৯ ও আবু হায়দার রনির অপরাজিত ২২ রান হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। উইন্ডিজের কিমো পল ৫টি, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন ২টি, কটরেল ও ব্রাথওয়েট একটি করে উইকেট নেন।         

তার আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তাণ্ডব চলে উইন্ডিজ ওপেনার এভিন লুইসের। এ ওপেনার পৌষের সন্ধ্যায় ঝরান ছক্কার বৃষ্টি। ৮ ছক্কা ও ৬ চারে তার সাজানো ৩৬ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস হতাশা বাড়ায় স্বাগতিকের। টাইগার বোলাররা পরে টপাটপ ক্যারিবীয়দের উইকেট তুলে দুইশর আগেই থামিয়ে দেয় প্রতিপক্ষকে। শুরুর ১০ ওভার ১২ করে রান তোলা উইন্ডিজ ৪ বল আগেই গুটিয়ে যায় ১৯০ রানে।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে লুইস যখন এলবিডব্লিউ হন, ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ তখন ৯.২ ওভারে ১২২/৩। বাংলাদেশের সামনে তখন বিশাল লক্ষ্য চোখ রাঙানি দিলেও পরের অংশে স্বস্তি নামান বোলাররা।

লুইস সাজঘরে ফেরার পর ১০ ওভারে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা নিতে পেরেছে কেবল ৬৮ রান। ক্যারিবীয়দের আটকে রাখায় বড় অবদান মাহমুদউল্লাহর। এ অফস্পিনার লুইসকে আউট করার পরের বলেই এলবিডব্লিউ করেন শিমরণ হেটমায়ারকে (০)।

ইনিংসের দশম ওভারে জোড়া উইকেট তুললে রানে তোলার গতিও কমে আসে। শেষপর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ নেন তিন উইকেট। সমান তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + three =

shares