লজ্জাবোধর কারণেই জাপানি ভাষায় কথা বলতে অনাগ্রহী ওসাকা ?

এবারও কাঁদলেন নাওমি ওসাকা। তবে আনন্দে। গেল মাসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভাকে হারানোর পর ওসাকার চোখে দেখা গেল আনন্দ-অশ্রু! এই আনন্দ ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের। এই আনন্দ ব্যাক টু ব্যাক গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জয়ের। 

শুধু কী তাই? বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থানটাও যে দখল করলেন জাপানের তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। শুধু জাপান নয়, গোটা এশিয়ার প্রথম প্রমীলা খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠলেন একুশ বছরের এই তরুণী।

নতুন মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাওমি ওসাকা ৭-৬ (৭/২), ৫-৭ এবং ৬-৪ গেমে পরাজিত করেন দুর্দান্ত গতিতে ছুটে চলা পেত্রা কেভিতোভাকে। দুইবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন কেভিতোভার বিপক্ষে জেতাটা মোটেও সহজ ছিল না ওসাকার। রড লেভার এ্যারেনায় রোমাঞ্চ এবং নাটকীয়তার ফাইনালে শেষ পর্যন্ত চেক তারকাকে হারাতে তার সময় লাগে দুই ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

২০ বছর বয়সেই বিশ্ব টেনিস দুনিয়ার নজর কেড়ে নেন নাওমি ওসাকা। ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে। গত মৌসুমে আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইউএস ওপেনের শিরোপা জয়ের পরও ওসাকাকে ছাপিয়ে লাইম লাইটে চলে আসেন সেরেনা। চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে সেরেনাকে নিয়েই মাতামাতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বিশ্ব গণমাধ্যম।

সেরেনার কারণে চ্যাম্পিয়ন হয়েও ‘ছায়া’ ছিলেন জাপানের তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। কিন্তু ‘বিস্ময়’ বালিকা যে তার দ্যুতি আরও ভালভাবে ছড়াবেন সেটা হয়তো মনে মনেই রেখেছিলেন। নতুন বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেই সেটা প্রমাণ করলেন ওসাকা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে অসাধারণ পারফর্মেন্স উপহার দিয়েই ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। সেই সঙ্গে ব্যাক টু ব্যাক গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের রেকর্ডও গড়লেন নাওমি ওসাকা।

তবে ওসাকার এতসব কীর্তিতে বিতর্ক থাকবে না তা কি করে হয় ? গত রবিবার ফাইনাল ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ওসাকাকে ইংরেজিতে একটি প্রশ্ন করার পর তা জাপানি ভাষায় উত্তর দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে তার সেই অনুরোধ আমলে না নিয়ে ইংরেজিতেই উক্ত প্রশ্নের জবাব দেয় ওসাকা। আর ওসাকার এমন কান্ডে বিস্মিত পুরো টেনিস বিশ্ব।

সাংবাদিক: পেত্রা কেভিতোভা যেহেতু বাঁহাতি একজন প্লেয়ার, তাই তার বিপক্ষে আক্রমণ করাটা নিশ্চয়ই সহজ ছিল না ? আপনি কি আমাদের জাপানি ভাষায় বলবেন, কতটা কঠিন ছিল সে চ্যালেঞ্জ ? ওসাকা: আমি ইংলিশেই উত্তর দিতে যাচ্ছি। এদিকে গেল বছর ইউএস ওপেন জয়ের পর থেকে নাকি বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটাচ্ছেন ওসাকা এমনটাই গুঞ্জন রয়েছে। শুধু তাই নয়, জাপানের রাস্তায় সর্মথকদের থেকে নিজেকে আড়াল করতে চশমা পড়ে ঘুরে বেড়ান ওসাকা -এমনটাই দাবি সমর্থকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − 6 =

shares