শেষ চার নিশ্চিতের মিশনে সুইডেনের বিপক্ষে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড

আজ থেকে কয়েকদিন আগেও বিশ্বকাপের কোন আলোচনাতেই ছিলোনা ইংল্যান্ড ও সুইডেন। অথচ আজ তারাই বিশ্ব আসরের কোয়ার্টারে মুখোমুখি হচ্ছে পরস্পরের।

সামারা অ্যারেনাতে বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায় শুরু হবে দুদলের লড়াই।  এর আগে ২৪ বার একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়েছে তারা। ৮ বার ইংলিশরা জিতলেও, ৭ বার জয় আছে সুইডিশদের।

তবে বিশ্ব আসরের নক আউটে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের জায়ান্ট দল দু’টি। দলে কোনো বড় তারকা ছাড়াই বিশ্বকাপে দারুণ খেলে বেশ চমকেরই সৃষ্টি করেছে সুইডেন।

বিশ্বকাপের আগে দলের সাবেক তারকা জ্লাতান ইবরাহিমোভিচের অবসর ভেঙ্গে দলে ফেরা না ফেরা নিয়েও কম নাটক দেখোয়নি তারা ফুটবল বিশ্বকে।

তবে সবাইকে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়ে এখন ১৯৯৪ এর পর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার জন্য মাঠে নামছে সুইডেন।

কোয়ার্টারে পৌঁছানো অন্য দলগুলোর তুলনায় শক্তি ও সামর্থ্যের দিক থেকে তুলনামূলক দুর্বল দল হলেও শেষ চারের টিকিট পেতে এখন বদ্ধ পরিকর গোটা সুইডেন শিবির।

দলের কোচ ইয়ান এন্ডারসনও আশাবাদী এই দল নিয়েই শেষ চারে পৌঁছাতে। এদিকে অন্যান্য দলকেও সতর্ক করে দিলেন সুইডিস কোচ যাতে তাদের খাটো করে দেখা না হয়।

২০১২, সুইডেনের বিপক্ষে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলো থ্রি লায়নরা। জেরার্ড, রুনিদের সেই ইংল্যান্ডকে প্রায় একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন সুইডিশ সুপারস্টার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। এরপর কেটে গেছে অনেকটা সময়, এর মাঝে আর পরস্পরের মুখোমুখি হয়নি তারা।

এর আগে আরো ২৩ বার নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলো দল দুটি। যেখানে ৮ বার জিতে এগিয়ে আছে ইংলিশরা। বিপরীতে ৭বার জয় পেয়েছে সুইডেন।

বাকি ৯ ম্যাচ থেকে কোন ফল বের করতে পারেনি তারা। তবে শেষ ১০ দেখায় আবার এগিয়ে আছে সুইডেন। ৫টি ম্যাচ ড্র হলেও, ৩ ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছিলো সুইডিশরাই।কোয়ার্টারে নামার আগে তাই পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রেখে খুব একটা নিশ্চিন্ত হতে পারবে না কেউই।

সেখানে যে নেই কারোরই পরিষ্কার আধিপত্য।ইতিহাস তো কত কথাই বলে, সব কি আর বাস্তব হয়। এবার তাই নেমে আসা যাক বর্তমানে।

রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগেও একেবারেই কোন আলোচনাতে ছিলোনা এ দল দুটি। বিশেষভাবে ইংল্যান্ডকে নিয়ে তো স্বয়ং তাদের ফেডারেশনও এতো দূরের স্বপ্ন দেখে নি। তবে মাঠের খেলা শুরু হতেই যেন ভোজবাজির মতো বদলে গেলো সব।

প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে শেষ মুহূর্তের গোলে হারালেও, ২য় ম্যাচে পানামাকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে কেইন-লিনগার্ডরা। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে এসে হোঁচট খায় সাউথগ্যাট শিষ্যরা।

হেরে বসে বেলজিয়ামের সঙ্গে। সেই শোক কাটিয়ে ২য় রাউন্ডে আবার কলম্বিয়াকে হারায় টাইব্রেকে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে কোরিয়াকে হারানোর পরই জার্মানদের কাছে হারে সুইডিশরা।

সেই জ্বালা মেটাতেই কি না মেক্সিকোকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় অ্যান্ডারসন শিষ্যরা। আর নক আউটে সুইসদের সঙ্গে নূন্যতম ব্যবধানে জয় পেয়েছে সুইডেন। এখানেও তাই ভালোই সমতায় আছে দু’দল।

তবে এক জায়গায় নিরঙ্কুসভাবে এগিয়ে আছে ইংলিশরাই। হেরি কেইনের ব্যক্তিগত ৬ গোলের সঙ্গে দল হিসেবে তারা স্কোরশিটে নাম উঠিয়েছে ৯ বার। বিপরীতে ২ গোল হজম করলেও ৫ বার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পেয়েছে গ্র্যাঙ্কভিষ্টরা।

এখন যদি এ ম্যাচেও স্টার্লিং, কেইনদের সঙ্গে জ্বলে উঠেন রাশফোর্ড-লিনগার্ডরা, তাহলে হলুদ-নীলদের কপালে যে কি আছে তা কেবল ফুটবল বিধাতাই জানে।

উল্টোদিকে ৫৮’র ফাইনালিস্টরা যেকোন মূল্যেই নিজেদের সেরা সাফল্যকে অন্তত আরো একবার ছুঁতে চাইবে সেটা তো হলফ করেই বলা যায়।

ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ : পিকফোর্ড, ওয়াকার, স্টোনস, মাগুয়ের, ত্রিপিয়ার, আলি, হেন্ডারসন, লিঙ্গার্ড, ইয়ং, স্টার্লিং ও কেন।

সুইডেনের সম্ভাব্য একাদশ : ওলসেন, এমিল, ভিক্টর, গ্রান্কবিস্ট, অগাস্টিনসন, ক্ল্যাসন, লার্সন, একডাল, ফর্সবার্গ, মার্কাস, তৈবেনোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 13 =

shares