হোপ-ঝড়ে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ!

টেস্ট ও ওডিআইতে নিজেদের জাত চেনাতে না পারলেও পছন্দের ফরম্যাট টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের দাপট দেখিয়েছে ক্যারিবীয়রা। সিলেটের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দেয়া ১৩০ রানের মামুলি লক্ষ্য মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১০.৫ ওভারেই পেরিয়ে যায় উইন্ডিজ। ২৩ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে  ক্যারিবীয় ওপেনার শাই হোপ।


তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়দের কাছে উড়ে গেল সাকিব আল হাসানের দল। শেই হোপের রেকর্ড গড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারের ম্যাচটি ১০.৫ ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে জিতে নিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির ফেরি করে বেড়ানো উইন্ডিজ। 

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ম্যাচটি শুরু হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩.১ ওভারেই দলীয় হাফসেঞ্চুরির দেখা পায় ক্যারিবীয়রা। দুই ওপেনার এভিন লুইস ও শাই হোপ উইকেটে ঝড় তোলেন। তবে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বলে ১৮ রানে থাকা লুইস বিদায় নেন।

কিন্তু ব্যাটে ঝড় চালিয়ে যান হোপ। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি। মাত্র ১৬ বলে পান ফিফটির দেখা। পরে ২৩ বলে ৩টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কায় ৫৫ করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

জয়ের জন্য বাকি কাজটা সহজেই সেরে ফেলেন নিকোলাস পুরান ও কেমো পল। পুরান ১৭ বলে ৩টি চারে ২৩ ও পল ১৪ বলে এক চার ও ৩টি ছক্কায় ২৮ করে অপরাজিত থাকেন।এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে মাত্র ১২৯ রনের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে হাফসেঞ্চুরি করেন সাকিব আল হাসান। ক্যারিবীয় বোলার শেলডন কোটরেল ৪টি উইকেট দখল করেন।

বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব দুর্দান্ত ব্যাটিং করে শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ করে কোটরেলের বলে বিদায় নেন। পরে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান দ্রুত বিদায় নিলে স্কোর বড় হয়নি টাইগারদের।

দলীয় ১৫তম ওভারে শতকের দেখা পায় বাংলাদেশ। আর পরের ওভারেই ছক্কা হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। ৪০ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ফিফটি স্পর্শ করেন দলনেতা। তবে একই ওভারে আরিফুল ১৭ রানে বিদায় নেন।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুটা যেভাবে করেছে, শেষটাও হয়েছে সেভাবে। ব্যাট হাতে কেবল উইকেটে গেছেন আর ফিরেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। মাঝে ব্যতিক্রম কেবল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ইনিংসের একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনিই, যে কি না উইন্ডিজ বোলারদের বোঝাতে পেরেছেন ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি। একইসঙ্গে খেলেছেন ৬১ রানের মহামূল্যবান এক ইনিংস। তার ব্যাটেই মূলত ১২৯ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।

চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা উইন্ডিজ পেসার শেলডন কটরেলের আঘাতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। দলীয় ৩১ রানের মধ্যেই তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারকে সাজঘর দেখিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। আর লিটন কুমার দাসকে থামান ওশান থমাস। ৩১ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

৪৩ বলে ৮টি চার ও দুটি ছক্কায় ৬১ রান করা সাকিব একপাশে থেকে রানের চাকা সচল রাখলেও অন্য পাশে বেজে গেছে বিদায়ের সুর। এর মাঝে মাহমুদউল্লাহ ১২ ও আরিফুল হক ১৭ রান করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। ২৮ রান খরচায় চার উইকেট নেন ম্যাচসেরা কটরেল। এ ছাড়া কিমো পল দুটি এবং ওশান থমাস, কার্লোস ব্রাথওয়েট ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন একটি করে উইকেট নেন। সিরিজের বাকি দুটি টি-টোয়েন্টি আগামী ১৭ ও ২২ ডিসেম্বর মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × three =

shares